মাগুরা প্রতিনিধি :
মাগুরা শহরের স্টেডিয়ামপাড়া এলাকায় জিহাদ হোসেন (১৮) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের দাবি, দাম্পত্য কলহ ও মানসিক কষ্টের কারণে তিনি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।
নিহত জিহাদ হোসেন মাগুরা সদর উপজেলার কুঁচিয়ামোড়া ইউনিয়নের আমুরিয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে শহরের স্টেডিয়ামপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে প্রেমের সূত্রে ঝালকাঠি জেলার মীম খাতুনের সঙ্গে জিহাদের পরিচয় হয়। পরে পারিবারিক সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। শুরুতে সম্পর্ক ভালো থাকলেও সময়ের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিরোধ ও দূরত্ব তৈরি হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঈদ উপলক্ষে বাবার বাড়ি যাওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তার স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যান। এরপর জিহাদ বারবার স্ত্রীকে ফিরে আসার অনুরোধ করলেও তিনি রাজি হননি বলে পরিবারের দাবি।
নিহতের ছোট বোন অপর্ণা বলেন, ভাই অনেকবার ভাবিকে ফিরে আসতে বলেছে। কিন্তু তিনি আসবেন না বলে জানিয়ে দেন। এই কষ্ট ও অভিমান থেকেই ভাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। আমরা কখনও ভাবিনি সে এমন সিদ্ধান্ত নেবে।
শনিবার গভীর রাতে স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখেই জিহাদ আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে। রোববার সকালে পরিবারের সদস্যরা তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
মাগুরা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পাই, একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় জিহাদের মরদেহ রয়েছে। তার মোবাইল ফোনে ভিডিও কল চালু ছিল। ঘটনাস্থল থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।
মাগুরা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতা পাঠানো হয়েছে।