বর্তমানে দেশজুড়ে হামের প্রকোপ ও এর ফলে শিশু মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বিশেষ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে রোটারেক্ট ক্লাব অফ মাওলানা ভাসানী টাঙ্গাইল। এরই অংশ হিসেবে আজ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রবেশমুখ, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও চিকিৎসা কেন্দ্রের (মেডিকেল সেন্টার) পাশসহ বিভিন্ন এলাকায় হাম রোগের লক্ষণ, প্রতিরোধ ও করণীয় বিষয়ক তথ্যসম্বলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড স্থাপন করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলায় হামের সংক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং ইতিমধ্যেই বেশ কিছু শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা জনমনে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। একই সাথে দেশের কিছু দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকায় হামের টিকার (এমআর ভ্যাকসিন) সাময়িক সংকট বা সরবরাহ ঘাটতি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর আসায় এই সময়ে সচেতনতা বৃদ্ধি আরও জরুরি হয়ে পড়েছে।
আজকের কার্যক্রমে ক্লাবের সদস্যরা সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে হাম রোগের লক্ষণ, প্রতিকার, সতর্কতা এবং সঠিক সময়ে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে টিকা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করেন। তাদের এই উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা যায়।
কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে ক্লাবের বর্তমান সভাপতি রোটারেক্টর মোঃ সাকিব হাসান খান বলেন, “দেশজুড়ে হামের প্রকোপ ও নানা সংকটের এই সময়ে জনগণের কল্যাণে রোটারেক্ট ক্লাব অফ মাওলানা ভাসানী টাঙ্গাইল সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করছে। সমাজের প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।”
ক্লাবের সেবা পরিচালক নাইম হোসেন বলেন, “এটি কেবল শুরু মাত্র। বর্তমান স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি, আজকের এই উদ্যোগ তারই একটি ক্ষুদ্র উদাহরণ।”
সদস্যপদ উন্নয়ন কর্মকর্তা নওরোজ ইফতেখার রাফিন বলেন, “সামনে আরও বৃহৎ পরিসরে জনকল্যাণমূলক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
মানবসেবা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক দায়িত্ববোধকে সামনে রেখে রোটারেক্ট ক্লাব অফ মাওলানা ভাসানী টাঙ্গাইলের এই উদ্যোগ এই সংকটের সময়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এবং সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য দিয়ে সচেতন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।
-----------------------------
(মো:জিসান রহমান / মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি)