প্রতিবেদক : মো তৌহিদুজ্জামান নাঈম
নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি বহুদিনের। বাংলাদেশে ধর্ষণ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আইনে নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ মামলার বিচার শেষ হতে বছরের পর বছর লেগে যায়।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলাগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আদালত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৫ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন রয়েছে ৩২ হাজার ৯৭২টি মামলা। ফলে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় ন্যায়বিচারের জন্য।
অন্যদিকে বিশ্বের কিছু দেশে গুরুতর যৌন অপরাধ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তি কার্যকরের নজির রয়েছে।
সৌদি আরবের একটি ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির একটি আলোচিত নজির হলো জেদ্দার মামলা। ঘটনায় এক প্রবাসী নারীকে তার বাসায় ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক আলামত ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে।
মামলায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ও অকাট্য প্রমাণ থাকায় বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়। সৌদি আদালত ঘটনার মাত্র ২৬ দিনের মাথায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। ইসলামি আইনের ‘তা'জির’ নীতির আওতায় বিচারক মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন শেষে শিরোচ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। পুরো বিচার ও শাস্তি কার্যকরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় প্রায় এক মাসের মধ্যে।
আবার মিশরে দ্রুত বিচারের আলোচিত আরেকটি ঘটনা হলো মনসুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নায়েরা আশরাফ হত্যাকাণ্ড। ২০২২ সালের জুন মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। ঘটনার মাত্র ২০ দিনের মাথায় নিম্ন আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল নিষ্পত্তি শেষে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে। সব বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে প্রায় ৩ মাস ২০ দিনের মাথায় দণ্ড কার্যকর করা হয়। দ্রুত তদন্ত, দ্রুত বিচার ও আপিল নিষ্পত্তির কারণে মামলাটি মিশরের বিচারব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়।
বাংলাদেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলার ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত এবং ৯০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের খসড়া প্রণয়ন এবং অনুমোদন করলেও, এটি এখনও চূড়ান্ত আইনে পরিণত হয়নি। বিদ্যমান আইনে বিচার শেষ করার সময়সীমা ১৮০ দিন নির্ধারিত রয়েছে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আইন ও ট্রাইব্যুনাল থাকলেও মামলার জট, তদন্তে বিলম্ব, সাক্ষীর অনুপস্থিতি এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত জটিলতায় বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবারকে বছরের পর বছর আদালতের দ্বারস্থ থাকতে হয়।