বর্তমানে আইন পেশায় নিয়োজিত থাকলেও জাইমা রহমানের শেকড় জুড়ে রয়েছে খেলাধুলার প্রতি এক গভীর অনুরাগ ও অসামান্য প্রতিভা। সম্প্রতি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং জাইমা রহমানের সাবেক কোচের বক্তব্যে উঠে এসেছে তার খেলোয়াড় জীবনের এক অজানা ও গর্বিত অধ্যায়। জানা গেছে, লন্ডনের বিখ্যাত ফুটবল ক্লাব ‘চেলসি’র নারী দলে গোলরক্ষক হিসেবে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।


ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এক সাক্ষাৎকারে জানান, জাইমা রহমান ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি দারুণ অনুরাগী ছিলেন। লন্ডনে স্কুল পর্যায়ে তার গোলকিপিং দক্ষতা এতটাই নজরকাড়া ছিল যে, চেলসির মতো বিশ্বখ্যাত ক্লাবের বয়সভিত্তিক দলে তার ডাক এসেছিল। প্রতিমন্ত্রীর মতে, জাইমার উচ্চতা এবং গোলপোস্টের নিচে তার ক্ষিপ্রতা তাকে একজন দক্ষ গোলরক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল।


জাইমা রহমানের এই প্রতিভা কেবল মুখের কথা নয়, বরং তার সাবেক কোচ হাকিমের (রিচমন্ড হিল সকার ক্লাব, কানাডা) দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণও একই কথা বলে। ঢাকা আইএসডিতে (ISD) পড়ার সময় জাইমা তার তত্ত্বাবধানে ফুটবল, সাঁতার ও দৌড়ে অংশ নিতেন। কোচ হাকিমের মতে:

> "জাইমা ছিল জন্মগতভাবে প্রতিভাবান এবং দুর্দান্ত অ্যাথলেটিক। সে সাঁতারে ছিল সেরা এবং দৌড়ে ছেলেদেরও পেছনে ফেলে দেওয়ার সক্ষমতা রাখত।"

তার এই অদম্য মানসিকতা ও জয়ের স্পৃহার কারণেই চেলসির মতো ক্লাব থেকে আমন্ত্রণ পাওয়াটা মোটেও অস্বাভাবিক নয় বলে মনে করেন এই অভিজ্ঞ কোচ।

মেধা ও শিক্ষার অগ্রাধিকার

একজন ক্রীড়াপ্রেমী হওয়া সত্ত্বেও জাইমা রহমান শেষ পর্যন্ত শিক্ষার পথকেই বেছে নিয়েছেন। তার বাবা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মা ডা. জুবাইদা রহমান চেয়েছিলেন মেয়ে আগে পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক। পরিবারের সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েই তিনি মাঠের লড়াই ছেড়ে টেবিলের লড়াইয়ে মনোনিবেশ করেন এবং বর্তমানে একজন সফল আইনজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।


জাইমা রহমানের এই ক্রীড়া ইতিহাস প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি নন, বরং নিজ যোগ্যতায় বৈশ্বিক মঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার মতো প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। চেলসির আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিয়ে শিক্ষার পথে হাঁটার এই সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিত্বের গভীরতা ও শৃঙ্খলারই পরিচয় দেয়। যারা তাকে নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন, তাদের জন্য জাইমার এই বর্ণাঢ্য অ্যাথলেটিক প্রোফাইল একটি যোগ্য জবাব।