মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে শহীদ হওয়া এক গর্বিত সন্তান হলেন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার তারাউজিয়াল গ্রামের এ এন এম মুনিরুজ্জামান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান এবং একজন শহীদ বুদ্ধিজীবী। দুঃখজনক হলেও সত্য, মাগুরার নতুন প্রজন্মের অধিকাংশ মানুষই আজ এই গুণী শিক্ষকের নাম জানে না। এমনকি তার নিজ গ্রামের অনেক মানুষও তার আত্মত্যাগ সম্পর্কে অবগত নন।


শহীদ এ এন এম মুনিরুজ্জামান ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ শিক্ষক। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে অপারেশন সার্চলাইট চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বাসভবনে কোরআন শরীফ তেলাওয়াতরত অবস্থায় পাক হানাদার বাহিনী তাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।


তার ভাতিজা, তারাউজিয়াল গ্রামের পল্লী চিকিৎসক শাহিদুজ্জামান খসরু জানান, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তিনি পাক বাহিনীর টার্গেটে পরিণত হন। একই সময়ে তার ছোট ভাই অ্যাডভোকেট নবাব মিয়া, ছেলে আকরামুজ্জামান ও ভাগ্নে মঞ্জুর হোসেনকেও হত্যা করা হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তাদের লাশ মাটি চাপা দেওয়া হয়।


শ্রীপুর ও মাগুরার সচেতন নতুন প্রজন্ম মনে করেন, এমন একজন শহীদ বুদ্ধিজীবীর স্মৃতি সংরক্ষণ করা জরুরি। তারা তার নামে স্মৃতিফলক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।


(মাগুরা জেলা প্রতিনিধি)