‎মো: জিসান রহমান, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

আজ শুক্রবার পালিত হচ্ছে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ১৪৬তম জন্মদিন। ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাঁর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকালে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) প্রশাসনসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

‎বিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নায়ক, কৃষক-শ্রমিকের অধিকার রক্ষার আজীবন সংগ্রামী ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম স্বপ্নদ্রষ্টাদের একজন ছিলেন মওলানা ভাসানী। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, মানবিক অবস্থান ও রাজনৈতিক সাহস আজও বাঙালির অনুপ্রেরণার উৎস।

‎১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া পল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শৈশবে ‘চেগা মিয়া’ নামে পরিচিত ভাসানী দরিদ্র পরিবারে জন্মালেও ধর্মচিন্তা, সত্যনিষ্ঠা ও ন্যায়বোধ তাঁকে আলাদা করে তোলে। ১৯০৭ সালে ভারতবর্ষের দেওবন্দে গিয়ে ইসলামি শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং দেশে ফিরে আসামের বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।

‎১৯১৭ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের ভাষণ তাঁকে রাজনৈতিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। ১৯১৯ সালে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং কারাবরণ করেন। ১৯২৬ সালে কৃষক-প্রজা আন্দোলনের নেতৃত্ব ও ১৯২৯ সালের ঐতিহাসিক ভাসানচর সম্মেলনের পর থেকেই তাঁর নামের শেষে ‘ভাসানী’ যুক্ত হয়।

‎বাংলা ভাষা আন্দোলনে তাঁর অবস্থান ছিল দৃঢ়। ১৯৪৮ সালে বাংলা ভাষাকে অবজ্ঞা করার প্রতিবাদে তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

‎১৯৬৪, ১৯৬৫, ১৯৬৮ সালের গণআন্দোলন এবং ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানেও তাঁর নেতৃত্ব ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থান তাঁকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে।

‎১৯৭৬ সালে ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে ইতিহাসখ্যাত লংমার্চ তাঁর সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একই বছর ১৭ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে সন্তোষে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

‎ভাষা আন্দোলনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০২ সালে মরণোত্তর একুশে পদক এবং ২০০৪ সালের বিবিসি জরিপে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকায় অষ্টম স্থান লাভ করেন।

‎বাংলার রাজনীতিতে মওলানা ভাসানী আজও সংগ্রাম, সততা ও মানবতার প্রতীক।