হবিগঞ্জ জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বানিয়াচং-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের শুঁটকি নদীর ব্রিজ সংলগ্ন অংশের বেহাল দশায় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়ছেন হাজারো মানুষ। বিশেষ করে রোগী পরিবহন ও জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।


বানিয়াচং উপজেলার লাখো মানুষের জন্য এটি একমাত্র জেলা শহরে যাওয়ার সড়ক। এই সড়ক দিয়েই রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায়। কিন্তু শুঁটকি নদীর ব্রিজের মুখে কাঁচা ও ভাঙাচোরা রাস্তায় ঝাঁকুনি খেয়ে গাড়ি বিকল হয়ে পড়ছে। এতে করে রোগীদের অবস্থা আরও গুরুতর হয়ে পড়ছে।


পথচারীরা বলছেন, শুধু সিএনজি নয়, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ সবাই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। সড়কটির এই অংশে ইট বিছিয়ে কোনোভাবে চলাচল সচল রাখা হলেও তা একেবারেই অস্থায়ী ও ঝুঁকিপূর্ণ।


স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই সড়কের উন্নয়ন হয়নি।


 বানিয়াচং বাসী দ্রুত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির ব্রিজসংলগ্ন অংশ পাকাকরণ ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সিএনজি ও অটোরিকশা চালকরা বলছেন, প্রতিদিন গাড়ির মেরামতের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

 এক চালক বলেন, “টায়ার‑চাকা নষ্ট হয় প্রায় নিয়মিত,  জরুরি সড়ক হলেও তো এখন দেখছি এর মান নেই। এই সড়কটি এলাকাবাসীর একমাত্র কানেকশন জেলা শহরের সঙ্গে। শিক্ষার্থী, রোগী, শ্রমিক, ব্যবসায়ী—সবাই নিয়মিত এই পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।

একটি কাদা‑ধুলো‑গর্তমুক্ত, মজবুত সড়ক না হলে, আমাদের জন্য জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ টিকিয়ে রাখা কল্পনাতেও অসম্ভব।”


পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দেশের গ্রামীণ ও অঞ্চলভিত্তিক সড়কগুলোর যে অভাব এবং দীর্ঘস্থায়ী অবহেলার চিত্র, সেটাই এখন প্রতি‑দিবসের বাস্তব; যদিও ১৯৯০-এর দশকে এমন রাস্তা গ্রাম-শহরকে সংযুক্ত করার জন্য নির্মাণ করা হতো।


শুধু একটি খাড়া পিচ বা ব্রিজ নয় — এটি বহু মানুষ, রোগী ও পথচারীর জন্য জীবন ও সময়ের সংযোগ। তাই দাবি উঠেছে, দ্রুত এই রাস্তাটিকে পাকা সড়কে উন্নীত করে, যাতে দুর্ঘটনা ও রোগীর যাতায়াতে ভোগান্তি বন্ধ হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত স্থানীয় গুণগত মান বজায় রেখে সঠিক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া।

প্রতিবেদক: শাহরিয়ার খান নাফিজ