মানুষের জীবনে প্রতিদিন সকাল আসে একেকটি নতুন সূচনা হয়ে কোরআন হাদিসে সকালকে বলা হয়েছে বরকতের সময় এই সময়টি কেউ যদি আল্লাহর স্মরণে, শৃঙ্খলায় ইতিবাচক কাজ দিয়ে শুরু করে, তার গোটা দিন হয়ে ওঠে সফল শান্তিময়। ইসলাম জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের মতো ঘুম থেকে জেগে ওঠার পরের সময়কেও শিক্ষণীয় বরকতময় করেছে। নবীজির (.) জীবনে সকাল ছিল সবচেয়ে সুশৃঙ্খল সময়; তিনি এই সময়ে ইবাদত, দোয়া, কাজ মননসবকিছুকে সঠিক ভারসাম্যে রাখতেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর ঘুমের পর থেকে দিন শুরু পর্যন্ত সময়টিকে যেভাবে অতিবাহিত করতেন, সেটিই আমাদের জন্য আদর্শ। চলুন জেনেনি ইসলামি শারিয়াহ মোতাবেক আমাদের সকাল কেমন হওয়া উঠিত

ঘুম থেকে উঠার সময় করণীয় :

ঘুম থেকে উঠে সর্বপ্রথম করণীয় হলো, হাত দিয়ে চেহারা থেকে ঘুমের প্রভাব দূর করা।[1] কারণ হাদিসে এসেছে নবীজি (স) ঘুম থেকে উঠে এটি করতেন। এছাড়ামুখে হাত বুলানোর সময় মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিন হরমোনের সামান্য নিঃসরণ ঘটে,যা মন ভালো রাখেস্ট্রেস কমায়, এবং দিনের শুরুটা হয় মানসিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ। এরপর আমরা ঘুম থেকে ওঠার দোয়া পড়বো। ঘুম থেকে ওঠার দোয়াটি হলো,

الْحَمْدُ للَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا، وَإِلَيْهِ النُّشُورُ

আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা বাদা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।[2]

অর্থ: “সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের ঘুমের পর আবার জীবিত করলেন, আর তাঁরই দিকে হবে আমাদের প্রত্যাবর্তন।[3]

এছাড়াও আল্লাহর কাছে দোয়া করার কথা হাদিসে এসেছে কারণ এসময় দোয়া কবুল হয় উবাদা ইবনে সামেত (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে এই দোয়া পাঠ করবে,

،لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ 
سبحان الله، والحمد لله، ولا إله إلا الله، والله أكبر، ولا حول ولا قوة إلا بالله

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন ক্বাদির, আল-হামদু লিল্লাহ, ওয়া সুবহানাল্লাহ, ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ।অথবা সে বলে, ‘আল্লাহুম্মাগ ফিরলি’ (হে আল্লাহ, আপনি আমাকে মাফ করে দিন) কিংবা সে যেকোনো দোয়া করে, তাহলে তার দোয়া কবুল করা হবে। আর যদি সে অজু করে এবং সালাত আদায় করে, তার সালাত কবুল করা হবে। [4]        এসময় নবীজিকে আকাশের দিকে তাকিয়ে সুরা আলে-ইমরানের শেষ ১০ আয়াত পাঠ করার কথাও হদিসে এসেছে  [5]



[1]  (বুখারি, হাদিস : ১৮৩)

[2] (বুখারি, হাদিস : ৬৩২৪)

 

[3] (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩১২; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭১১)

 

[4] (বুখারি, হাদিস : ১১৫৪)

[5] (মুসলিম, হাদিস : ৬৭৩)

পরবর্তী পার্ট পেতে আমাদের পেইজ ফলো করেুন।