জবি সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী গান-গেয়ে প্রতিবাদ

প্রাথমিকে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক পদ পুনর্বহালের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা গান গেয়ে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।


শিক্ষার্থীরা গানে গানে দাবি জানান এবং ক্যাম্পাসজুড়ে প্রতিবাদ র‍্যালি করেন। এতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরাও সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।


সংগীত বিভাগের ১৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থী পারমিতা সাহা বলেন,


> “প্রাথমিকে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক পদ পুনর্বহালের দাবিতে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের মতো আমরাও আজ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। এই দুটি পদ পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যাব।”


একই বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল কবির বলেন,


> “আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সবাই একসঙ্গে রবিবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি জমা দেবে। এরপরও যদি দাবি না মানা হয়, আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেব।”

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জবি শাখার সভাপতি ইভান তাহসীব বলেন,

> “প্রাথমিক স্তরে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক পদ থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। উন্নত দেশগুলো যেখানে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে পদগুলো বাতিল করা হতাশাজনক। রাষ্ট্র যদি এখনো এই দাবি উপেক্ষা করে, আমরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে যাব।”


জবি সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অণিমা রায় বলেন,


> “সংগীতের জন্য বাঙালিকে রাস্তায় দাঁড়াতে হবে— এটা কল্পনাতীত। মুক্তিযুদ্ধ ছিল সংস্কৃতির আন্দোলন, স্বাধীন সত্তার আন্দোলন। সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক পদ পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে।”


উল্লেখ্য, গত ২৮ আগস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন নিয়োগ বিধিমালা জারি হয়। এতে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষার সহকারী শিক্ষক পদ যুক্ত করা হলেও পরবর্তীতে কিছু ধর্মভিত্তিক সংগঠনের আপত্তির পর গত রবিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পদ দুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

জবি প্রতিনিধি