চবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত 'সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট' প্যানেল থেকে এজিএস (সহ সাধারণ সম্পাদক) পদে প্রার্থী হয়েছেন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থী সাজ্জাত হোছন মুন্না। দরিদ্র কুমার পরিবারের সন্তান মুন্না বলেন, “আমার আঞ্চলিকতা আর জড়তাই আমার সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। আমি সেই প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি, যারা হাজারো সীমাবদ্ধতা মাড়িয়ে স্বপ্ন দেখতে শিখেছে।”

সোমবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে নিজের সংগ্রামী জীবনের গল্প তুলে ধরেন তিনি। 

সেখানে তিনি জানান, তার বাবা-মা দুজনই মৃত্তিকা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বড় ভাই ক্লাস থ্রি পর্যন্ত পড়াশোনা করেই জীবিকার তাগিদে গ্যারেজে কাজ শুরু করেন ২০১৩ সালে। এমন এক পরিবার বেড়ে ওঠা তার, যেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা প্রথম ব্যক্তি তিনিই।

মুন্না বলেন, 'আমাদের মতো প্রান্তিক জনপদের শিক্ষার্থীদের শুধু নিজের কথা ভাবলেই হয় না, চলতে হয় সবাইকে নিয়ে।'

নিজের পড়াশোনার খরচ টিউশন করিয়ে চালানোর পাশাপাশি ছোটবোনের শিক্ষাজীবনেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি। বর্তমানে তার বোন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগে অধ্যয়নরত।

চবিতে এসে মুন্না জড়িত হয়েছেন চার থেকে পাঁচটি সামাজিক সেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে। শাহজালাল হলে ‘কর্জে হাসানা ফান্ড’ নিয়ে অর্থাভাবে কষ্ট পাওয়া শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেছেন তিনি।

তিনি বলেন, “যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হয়েছি, সেগুলো যাতে অনুজদের পিছিয়ে না দেয়, তাই সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি।

নিজের সীমাবদ্ধতাকে শক্তিতে পরিণত করাই মুন্নার জীবনের মূল প্রেরণা। তার ভাষায়, “আমার জড়তা, আঞ্চলিকতা, সীমাবদ্ধতা—এই তিনটাই আমার স্ট্রাগলের প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা হাজারো শিক্ষার্থী এই একই সংগ্রামের অংশ। আমি তাদের কণ্ঠস্বর হয়ে লড়তে এসেছি।”

মুন্না বিশ্বাস করেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। “আমি মনে করি, আমি তাদেরই একজন। তাই বিশ্বাস করি, সাধারণ শিক্ষার্থীরাই তাদের একজন হিসেবে আমাকে বেছে নেবেন, ইনশাআল্লাহ,” বলেন তিনি।